কালীগঞ্জে চলাচলের রাস্তায় বেড়া, ভোগান্তিতে কয়েকটি পরিবার
যোগফল প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মানপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও নেটের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকটি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে কালীগঞ্জ থানার ওসির কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম জানান, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার দুটি খামার প্রায় আড়াই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। খামারে বালু ও অন্যান্য মালামাল নেওয়া যাচ্ছে না। ইঞ্জিনভ্যান ও মোটরভ্যানও বাড়িতে নিতে পারছেন না। এতে ব্যবসা ও খামারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধের ঘটনায় প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তার।
আরেক ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশ সুপারের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়। তার অভিযোগ, থানার ওসি বারবার ‘দেখছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করছেন।
ভুক্তভোগী মনিরা বেগম জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেড়া সরিয়ে রাস্তা উন্মুক্ত করার নোটিশ দেওয়া হলেও সেটিও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রায় দুই মাস ধরে থানায় যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাননি বলে অভিযোগ তার।
নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, তাদের দুটি খামার ও দুটি ভ্যান রয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় খামারে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৫ দিন ধরে থানায় যোগাযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ওই জায়গায় আগে কোনো বেড়া ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে এটি যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আশপাশের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বেড়া দেওয়া পরিবারের সদস্যরাও আগে এ পথ দিয়ে চলাচল করতেন।
তবে প্রতিপক্ষ আমিরুল ইসলাম ও নাজমুল হুদার দাবি, জায়গাটি তাদের পারিবারিক কবরস্থানের অংশ। তারা ওই জমির অংশীদার এবং জমি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্য বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সামান্য জায়গা রাখা আছে বলে দাবি করেন তারা।
তারা আরও বলেন, জমির অংশ নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের জমির দাবিও তারা অস্বীকার করেন।
সমাধানের উদ্যোগ ব্যর্থ
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুক মন্টু বলেন, বিষয়টির পেছনে মূলত পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। জন্মের পর থেকেই তিনি ওই পথে চলাচল করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে চলাচলের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথও ছিল।
তিনি জানান, বিরোধের পর বেড়া দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে মাপজরিপের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আলোচনার জন্য দিনও নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত বৈঠকের আগেই এক পক্ষ আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।
পুলিশের বক্তব্য
আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কালীগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখছি।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. বায়েজীদ ইসলাম বলেন, ‘আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখি, আর কী কী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।’
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন